দেবী চৌধুরাণী রাজবাড়ী (Devi Chowdhuryan Palace) রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার মন্থনা গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। এটি মন্থনা জমিদার বাড়ি বা পীরগাছা রাজবাড়ি হিসেবেও পরিচিত। ১৭০৩-০৪ খ্রিষ্টাব্দে জমিদার অনন্তরামের মাধ্যমে এই রাজবাড়ির গোড়াপত্তন হয়।
দেবী চৌধুরাণীর ভূমিকা:
দেবী চৌধুরাণী, যিনি জয়দুর্গা দেবী চৌধুরানী নামে পরিচিত, ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম বাঙালি নারী নেত্রী। তিনি প্রজাদের অধিকার রক্ষায় এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
রাজবাড়ির স্থাপত্য ও ঐতিহ্য:
দেবী চৌধুরাণী রাজবাড়িতে দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো ত্রিবিগ্রহ মন্দির রয়েছে, যেখানে অন্নপূর্ণা, বিশেশ্বর, শিব ও হরিহর বিগ্রহ রাখা হয়েছে। এছাড়া, রাজবাড়ির ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন মন্দিরগুলো কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে।
কিভাবে যাবেন:
- ঢাকা থেকে রংপুর: ঢাকা থেকে রংপুরে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন বাস ও ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাসের ভাড়ার পরিমাণ ৭৫০ থেকে ১৫০০ টাকা, যা পরিবহন কোম্পানির উপর নির্ভর করে। ট্রেনে যেতে আসনভেদে ভাড়া ৫৮৫ টাকা থেকে ২,০১৩ টাকা।
- রংপুর থেকে পীরগাছা: রংপুর শহর থেকে পীরগাছা উপজেলার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এখানে স্থানীয় বাস, সিএনজি বা অটোরিকশা ব্যবহার করে রাজবাড়ীতে পৌঁছাতে পারেন।
থাকার ব্যবস্থা:
রংপুর শহরে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে, যেমন হোটেল নর্থভিউ, পর্যটন মোটেল, দি পার্ক হোটেল, হোটেল গোল্ডেন টাওয়ার, হোটেল তিলোত্তমা, হোটেল কাশপিয়া প্রভৃতি।
দর্শনীয় স্থান:
- দেবী চৌধুরাণী রাজবাড়ী: রাজবাড়ির মন্দির ও স্থাপত্যশৈলী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
- পীরগাছা বাজার: স্থানীয় বাজারে স্থানীয় হস্তশিল্প ও খাদ্যদ্রব্য কেনাকাটা করা যায়।
খাবারের ব্যবস্থা:
রংপুর শহরে বিভিন্ন মানের খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এছাড়া, আমের সিজনে রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আম খেয়ে দেখতে পারেন।
সতর্কতা:
দেবী চৌধুরাণী রাজবাড়ী একটি ঐতিহাসিক স্থান। দর্শনার্থীদের স্থানীয় নিয়ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করা উচিত।
দেবী চৌধুরাণী রাজবাড়ী রংপুরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে ভ্রমণ করে বাঙালি নারীর সাহসিকতা ও সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।
ফিচার ইমেজ: মাই পীরগাছা
No Comment! Be the first one.